জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করার পর সামান্তা শারমিনকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন মাহফুজ আলম ও তাসনিম জারা।
সামান্তা শারমিনকে নিয়ে অপপ্রচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম অল্টারনেটিভসের সংগঠক মাহফুজ আলম। অন্যদিকে সামান্তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন চিকিৎসক ও তরুণ রাজনীতিক তাসনিম জারা।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেন সামান্তা শারমিন। এরপর রাতে তাঁকে নিয়ে ফেসবুকে প্রশংসামূলক পোস্ট দেন তাসনিম জারা। আজ শুক্রবার সকালে সামান্তা শারমিনকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন মাহফুজ আলম।জাতীয় নাগরিক কমিটি থেকে গঠিত হয়ছিল এনসিপি। নাগরিক কমিটির মুখপাত্র ছিলেন সামান্তা শারমিন। এই প্রসঙ্গ টেনে মাহফুজ আলম তাঁর ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ছয় সদস্যের বৈষম্যবিরোধী লিয়াজোঁ কমিটি থেকে চার শতাধিক কমিটির জাতীয় নাগরিক কমিটিতে উত্তরণ ও বিস্তারে যাঁদের মুখ্য অবদান আছে, তাঁদের নিয়ে নোংরামি ও অপপ্রচার একটা বাজে নজির। আগেও হয়েছে অনেক। দল গঠনের দিন থেকে এ নজির সেই দলের তৎকালীন নেতৃত্বই স্থাপন করেছিলেন। গতকালও সামান্তা শারমিনকে নিয়ে একই কাণ্ড হলো।
লিয়াজোঁ কমিটি ও নাগরিক কমিটিতে মুখ্য ভূমিকা রাখা লোকজন না থাকলে একটি দল এত দ্রুত গঠিত হতো না বলে ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য করেন মাহফুজ আলম। তিনি লিখেছেন, ‘সুতরাং, যারা ভিত গড়ে দিয়ে জোটের কারণে চলে গেছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকুন। তাঁরা দিনরাত পরিশ্রম করেছেন বলেই দলটাকে আপনারা একটা শেইপে পেয়েছিলেন। আর, কৃতজ্ঞতা না দেখাতে পারলে রাজনৈতিক সহাবস্থান ও ভালো চর্চার খাতিরে নিরব থাকুন।’
তাসনিম জারা তাঁর ফেসবুক পোস্টে সামান্তা শারমিনকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, রাজনীতিতে কথা বলতে আসা মানুষের অভাব নেই। শুনতে আসা মানুষ খুব কম। সামান্তাকে খুব কাছ থেকে তিনি দেখেছেন। তিনি সেই অল্প মানুষদের একজন। অক্লান্ত পরিশ্রম করেন, তবু কেউ কথা বলতে এলে তিনি থামেন। পুরোটা শোনেন। মানুষটাকে কখনো বুঝতে দেন না যে, তাঁর তাড়া আছে। মানুষের কাছে যান তাঁদের জীবনটা বুঝতে, তাঁদের পাশে দাঁড়াতে।তাসনিম জারা লিখেছেন, ‘ওনার রাজনৈতিক জার্নি এখনো অনেক বাকি। এমন মানুষের জায়গা আমাদের রাজনীতিতে আরও বড় হওয়া দরকার।’
এনসিপির প্রতিষ্ঠাকালীন নেতাদের অন্যতম ছিলেন সামান্তা শারমিন। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণেরা প্রায় দুই বছর আগে যখন এনসিপি গঠন করেন, তখন দলটির জ্যেষ্ঠ আহ্বায়ক হয়েছিলেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী সামান্তা শারমিন সবশেষ এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। এনসিপির পুনর্গঠিত কমিটিতে ‘পদাবনতির’ দুই সপ্তাহ পর তিনি দল ছাড়েন।দল ছাড়ার কারণ হিসেবে সামান্তা শারমিন বলেছেন, নিজস্ব রাজনৈতিক ‘লাইন’ স্পষ্ট না থাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে হারিয়ে যেতে হচ্ছে। গণ–অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের এই দলটিকে এখন জামায়াতের জন্য নানা ইস্যুতে প্রতিক্রিয়ামূলক ও সহায়ক ভূমিকা নিতে হচ্ছে। তা ছাড়া এনসিপির ‘বড়’ রাজনৈতিক দলের ‘লেজুড়’ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়াটা দলটির নিজস্ব নতুন রাজনীতির সম্ভাবনাকে নিঃশেষ করেছে বলেও মনে করছেন সামান্তা শারমিন। এ ছাড়া এনসিপির ভূমিকা নারীবিরোধী রক্ষণশীল রাজনৈতিক প্রবণতার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে বলে মনে করছেন তিনি। কাউন্সিল এড়িয়ে এনসিপির কমিটি পুনর্গঠন নিয়েও নিজের অসন্তোষের কথা উল্লেখ করেছেন সামান্তা শারমিন।




