বাংলাদেশে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলন সহিংস রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস (টিয়ার গ্যাস) ব্যবহার করেছে। অন্যদিকে কারখানা মালিক এবং রাজনৈতিক দলের সশস্ত্র সমর্থকদের সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ, কারখানায় ভাঙচুর এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, পুলিশের উচিত কেবল প্রয়োজন হলে এবং যতটুকু দরকার ঠিক ততটুকুই বলপ্রয়োগ করা। একই সাথে, যারা সহিংসতা চালিয়েছে তাদের সবাইকে জবাবদিহি ও শাস্তির আওতায় আনা সরকারের দায়িত্ব।

গত ৩ নভেম্বর তৌফিক হোসেন নামের এক পোশাকশ্রমিক নিহত হন। তার সাথে থাকা এক সহকর্মী হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে জানান, দুপুরের খাবারের পর আমরা কারখানায় ফিরছিলাম। তখন তৌফিক আন্দোলনকারী শ্রমিক এবং অন্য একটি পোশাক কারখানার আন্দোলন দমন করতে ভাড়া করা ক্যাডারদের মাঝে পড়ে যায়। আমি পিছু ফিরে দেখি তৌফিক মাটিতে পড়ে আছে। ভাড়াটে লোকগুলো তাকে নির্মমভাবে পিটিয়েছে।

আন্দোলনরত শ্রমিকরাসাড়ে ১২ হাজার  টাকা থেকে বাড়িয়ে প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবি করছেন। সরকার গত ১ নভেম্বর একটি নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে।  আগামী ডিসেম্বর থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।আন্দোলনকারী ৩১ বছর বয়সী এক সেলাই মেশিন অপারেটর তার জীবনযাত্রার সংকটের কথা তুলে ধরে বলেন, আমার বাসাভাড়া ৬,০০০ টাকা। রান্নার গ্যাসের দাম এখন ২,৩০০ টাকা। আমি মাসে ১৩,৫০০ টাকা আয় করি। এ বছর সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে পারছি না। আপনারাই বলুন, খাবার কেনার জন্য আর কী বাকি থাকে?

শ্রমিকদের জীবিকা নির্বাহের যৌক্তিক দাবি সমাধানের বদলে কর্তৃপক্ষ রাজনৈতিক বিরোধী দলকে আন্দোলন উসকে দেওয়ার জন্য দায়ী করছে। গত ৩ নভেম্বর ঢাকা পুলিশ জানায়, নাশকতার অভিযোগে তারা সাবেক ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ৩৩ জন সমর্থককে গ্রেপ্তার করেছে। অন্যদিকে, বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের ওপর ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) যুব সংগঠন হামলা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

উসকানি দেওয়ার অভিযোগে ৩ নভেম্বর আশুলিয়া থেকে তিন শ্রমিক নেতাকে আটক করা হয়। এ ছাড়া পুলিশ হাজার হাজার অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেছে।