গতকাল দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, ১৪ তলা ভবনের সিঁড়ি দিয়ে তৃতীয় তলায় উঠতে বাঁ পাশে তাহসিফদের ফ্ল্যাট। বাসার ভেতরে স্বজনের ভিড়। তাহসিফের বাবা ছেলের লাশ নিতে হাসপাতালে ছিলেন। তিন কক্ষের বাসার ভেতরের কক্ষে নারীরা নিহত তাহসিফের মা হোসনে আরা বীথিসহ পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন। তাহসিফের ফুফা এজাজ হোসেন সমকালকে বলেন, তাহসিফ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিয়েছে। সেখানকার নিরাপত্তা-বিষয়ক কর্মকর্তা ছিল। তার সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল না। কিন্তু কীভাবে নিহত হলো– এটাই রহস্য। ‘শঙ্কিত’ ছিলেন তাহসিফ তাহসিফ কিছু একটা নিয়ে শঙ্কিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন তাঁর বাবা এনায়েতুল করিম। তাহসিফ কখনও কোনো হুমকি পেয়েছিলেন কিনা– সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওই রকম কিছু বলে নাই। তবে মাঝেমধ্যে আমাকে বলত, সে শঙ্কিত।’ এনায়েতুল করিম জানান, মঙ্গলবার দিনে মায়ের সঙ্গে কেনাকাটা করেছেন তাহসিফ। রাতে বাসায় না ফেরায় তাঁর (তাহসিফ) খোঁজ করতে থাকে পরিবার। বুধবার দুপুরে তুরাগ থানায় যান তিনি। তখন ছেলের বিষয়ে তাঁকে কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ। বিকেল সোয়া ৫টার দিকে উত্তরখান থানা থেকে ফোন আসে। তাঁকে জানানো হয়, ছেলের লাশ পাওয়া গেছে। এনায়েতুল করিম জানান, তুরাগের যেখান থেকে ছেলের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, সেদিকে তাহসিফ কখনও যেতেন বলে তাদের ধারণা নেই। তাহসিফের পরিবারের সদস্যরা সমকালকে জানান, বিমানবাহিনী থেকে চাকরি যাওয়ার পর তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও নেত্র নিউজের সঙ্গে যুক্ত হন। সর্বশেষ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা বিভাগে কাজ করছিলেন।ছেলে সম্পর্কে এনায়েতুল করিম বলেন, ‘সে ছিল অত্যন্ত জেন্টেল প্রকৃতির ও সামাজিক। সিনিয়র-জুনিয়র সবার সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক ছিল।’ তিনি বলেন, ‘তদন্তের মাধ্যমে সরকার সত্য উদ্ঘাটন করে দোষীদের চিহ্নিত করতে পারবে– এটা আমি বিশ্বাস করি।’ মোটরসাইকেলের খোঁজে পুলিশ দেড় মাস আগে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার পাশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হন তাহসিফ। এতে আহত হয়ে বেশ কয়েক দিন বাসায় ছিলেন। তখন বাসায় তিনি জানিয়েছিলেন, একটি গাড়ি তাঁর মোটরসাইকেলকে চাপা দিতে চেয়েছিল। বিষয়টিকে তখন গুরুত্ব না দিলেও তাঁর মৃত্যুর পর ঘটনাটি সন্দেহজনক মনে করছেন স্বজনরা। দুর্ঘটনার পর তাঁকে মোটরসাইকেল চালাতেও পরিবারের পক্ষ থেকে নিষেধ করা হয়